.
প্রবন্ধ
শুক্রবারের পরস্ত্রী
অয়ন মুখোপাধ্যায়
October 22, 2026
প্রতি শুক্রবার রাত দশটা বাজলে আমি অন্য একজনের স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম করি।
শেষ মেট্রো। কবি সুভাষগামী। পাতালের অন্ধকার চিরে ট্রেনটা যখন ঢোকে, তখন প্ল্যাটফর্মে হাতে গোনা কয়েকজন: ঘুমে ঢুলে পড়া এক সিকিউরিটি গার্ড, ব্যাগ আঁকড়ে ধরা দুটো কলেজপড়ুয়া, আর সে।
সে দাঁড়িয়ে থাকে চার নম্বর কামরার দরজার কাছে। গায়ে ছাই-রঙা তাঁতের শাড়ি, যেন বর্ষার আকাশ কেউ ভাঁজ করে জড়িয়ে নিয়েছে। চোখে আলগা কাজল, সারাদিনের ক্লান্তিতে কোণের দিকে একটু ধেবড়ে গেছে, ঠিক যেমন বৃষ্টির পর জানলার কাচে ধুলোর রেখা গলে যায়। কণ্ঠার হাড়ের ঠিক নিচে একটা তিল। আমি জানি, ওই তিলটা ছুঁলে ওর শ্বাস এক মুহূর্তের জন্য থমকে যায়, যেমন সিঁড়ির শেষ ধাপটা না দেখে পা ফেললে আমার বুকটা ধক করে ওঠে।
আমাদের নিয়ম কিন্তু তিনটে। নাম বলা যাবে না। বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞেস করা যাবে না। আর শুক্রবারের বাইরে কোনও দিন আমাদের মধ্যে কোথাও কখনো দেখা হবে না।
প্রবন্ধ
কাটোয়ার বনেদি বাড়ির পুজো পরিক্রমা
প্রবীর আচার্য
October 21, 2026
বহু পুরনো শহর কাটোয়ায় অনেকগুলি বনেদি পুজো বাড়ি আছে যেখানে এখনও দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। সেসব বাড়িগুলির কাঠামো প্রায় একই রকম। বড়ো বড়ো থামওয়ালা মূল পূজামণ্ডপ। মণ্ডপের সামনে চুন-সুড়কির ফুলকারি। পূজা মণ্ডপের সামনে বাঁধানো চত্বর বা অঙ্গন। চত্বর বা অঙ্গন থেকে পূজামণ্ডপ প্রায় এক মানুষের ওপর উঁচু। বেশিরভাগ পুজো বাড়ির অঙ্গনেও রয়েছে দোতলা সমান উঁচু ছাদ এবং তার ওপর আলো বাতাস চলাচলের জন্য কাচ বসানো গবাক্ষ। অঙ্গনের চারদিক ঘিরে উঁচু দোতালা দালান। দু’তলার এই অলিন্দগুলির খড়খড়ি লাগানো জানলা, সেখানে মহিলাদের বসার জায়গা রয়েছে। পুজোর সময় সেগুলিতে আলো, ঝালর এবং কলার ছড়া, ডাব এসব ঝোলানো হয়। তাছাড়া অঙ্গনের উপর থেকে ঝাড়বাতি এবং বেলোয়ারি কাচের সাজসজ্জা ঝোলানো হয়। এই সরঞ্জামগুলি বহু পুরনো, সারা বছর যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়, কেবল পূজার সময় বের করা হয়। তবে পুরনো মোমবাতি দিয়ে জ্বালানো বড়ো বড়ো বেলোয়ারি ঝাড়বাতিগুলো অধিকাংশ বাড়িতেই নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবর্তে এসেছে বৈদ্যুতিক ঝাড়বাতি।
ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবাদে কাটোয়া মহকুমার গ্রাম-গঞ্জ থেকে বহু পরিবার উঠে এসে কাটোয়ায় বসতি স্থাপন করে।
গল্প
উপলতির “ডাক্তার বাড়ি “র দুর্গাপূজা
বুদ্ধদেব মুখোপাধ্যায়
October 18, 2026
অবিভক্ত বঙ্গ দেশে তাহেরপুরের রাজা কংস নারায়ন বঙ্গদেশে প্রথম জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গা পুজো শুরু করেছিলেন বলে জানতে পারা যায়।
বর্তমানে আমি যে পরিবারের দুর্গা পূজার কথা বলতে চলেছি তা হল পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা এক নম্বর ব্লকের সুলতানপুর অঞ্চলের উপলতি গ্রামের আজ থেকে প্রায় আড়াইশো বছর পূর্বেকার অভিজাত্য ঐতিহ্য বহনকারী ডাক্তার বাড়ী তথা জমিদার বাড়ির পূজা। যদিও এই দুর্গাপূজার নামকরণ প্রায় একশ বছর আগে ডাক্তার বাড়ির পূজা বলেই খ্যাত। এই ডাক্তারবাড়ির পারিবারিক পদবী মুখার্জি বা মুখোপাধ্যায়।
গল্প
দুর্গতিনাশিনী!
সোমনাথ ব্যানার্জী
October 17, 2026
দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর সন্ধ্যা। আলোকিত চারদিক। পাড়ায় বক্সে তথাকথিত বাংলা গান চলছে। ছোট ছেলেমেয়েরা চকোলেট বোমা ফাটাচ্ছে। যুবক-যুবতীরা নতুন জামাকাপড় পরে পাড়ায় পাড়ায় দুর্গাপ্রতিমা দেখতে বেড়িয়েছে। বড়রা একসঙ্গে জটলা করে নানা পুরোনো কথার স্মৃতিচারণ করছেন।
আলোকিত বারোয়ারি মণ্ডপ থেকে একটু দূরেই, খেলার মাঠের ধারে, একটা ছোট ভাঙা শিবমন্দির। সেখানে আলো তেমন নেই। মন্দিরের সিঁড়িতে বসে আছে নীল। পুজোর আবহ তার ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি। সে বসে বসে রাতের আকাশের তারার দিকে চেয়ে আছে। তার দৃষ্টিতে কোনো চাহনি নেই, আছে শুধু ব্যাকুলতা, অসহায়তা।
ঠিক এই সময় একজন সাইকেল চালিয়ে মন্দিরের সামনে এল। নীলের বন্ধু, স্বর্ণাভ।
নীল তাকিয়ে বলল, “হয়ে গেল?”
সাইকেল থেকে নেমে স্বর্ণাভ বলল, “হ্যাঁ।” এই বলে মন্দিরের সিঁড়িতে বসে পড়ল।
নীল বলল, “পেলি কিছু?”
গল্প
আগমনী
বিপ্লব ভট্টাচার্য্য
October 16, 2026
সময়টা তখন শরৎকাল। আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা। মাঠে মাঠে কাশেরফুলে দোলা আর বাতাসে শিউলি গন্ধ। মহালয়ার সুরের কলতানে রমরম করছে পাড়া পরিবেশ। এই শুভক্ষণেই মুখার্জী বাড়ির বড়ো বৌ উমার প্রসব যন্ত্রণা উঠলো। বাড়িতে নতুন অতিথি আসবে। সবার মনে খুশির বন্যা। সবার মনে আশা উমার গর্ভে নিশ্চয়ই লক্ষ্ণী আসছে। ঘরে লক্ষ্ণী আসবে। স্বামী দেওর উমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েই উমার জীবন দ্বীপ নিভে গেল। বোধনের আগেই উমার বিসর্জন হয়ে গেল। পুত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে বাবা-কাকারা বাড়ি ফিরে আসে। মা-হারা ছেলে যেনো তেনো ভাবে বড়ো হতে লাগলো। বাবা আদোর নাম রাখলো দীপক। বেশ ভালো ভাবেই চলছিল। কাকা কাকিমা দাদু ঠাকুমাদের স্নেহে বড়ো হতে লাগলো দিপু। স্কুল পাশ করে বাবা তাকে বোর্ডিং এ রাখার ব্যবস্থা করল। সেখান থেকেই পড়াশোনা করতে লাগলো দীপু।
কয়েক বছর যেতে না যেতেই অফিস থেকে ফেরার পথে একটা রোড এক্সিডেন্টে দীপুর বাবা মারা গেল। এবার অবজ্ঞা আর অবহেলার মধ্যে বড়ো হতে লাগলো দিপু। আর তার বোডিং থেকে পড়াশোনা করা হলো না। কাকারা পড়াশোনা করার খরচ চালতে পারবে না বলেই দিল। অগত্যা তার জীবন থেকে পড়াশোনা করার বোধহয় শেষ হবার উপক্রম হতে লাগলো। তবু একটা টিউশানি ধরে পড়ার খরচ জোগানোর ব্যবস্থা দীপু নিজেই করে নিলো। খুব মেধাবী ছাত্র ছিল সে। তাই যেমন করেই হোক পড়াশোনা করতে লাগলো।
প্রবন্ধ
আমার ভালোবাসার দুর্গাপুজো
সুদীপ ঘোষাল
October 12, 2026
কলকাতা ও কাটোয়া শহরের পুজো দু একবার দেখেছি। কিন্তু দুর্গাপুজো এলেই পুরোনো বন্ধুরা, দেশ বিদেশ থেকে গ্রামে চলে আসে। একসঙ্গে পুজো দেখা হয়।
আমার গ্রামের নাম পুরুলিয়া। কেতুগ্রাম থানার অন্তর্গত এই ছোট্ট গ্রামটি দুর্গাপুজোর সময় যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। সারা বছর আমরা যে যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি, কিন্তু শরৎ এলেই গ্রামের বাতাসে উৎসবের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কাশফুল দোলে, আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ায়।
আমাদের গ্রামে মোট চারটি দুর্গাপুজো হয়,ভট্টাচার্য পাড়া, রায়পাড়া, মণ্ডপতলা ও সর্দার পাড়ায়। সবথেকে প্রাচীন পুজো ভট্টাচাৰ্য পাড়া, মন্ডপতলা ও রায়পাড়ার পুজো। তখনকার জমিদার এই পুজোর প্রচলন করেন।
প্রবন্ধ
মহালয়া ও চন্ডীপাঠ
অনিল চক্রবর্তী
October 09, 2026
ভাদ্রমাসের প্রতিপদ তিথি থেকে পরবর্তী অমাবস্যা পর্যন্ত পনেরো দিনের সময়টাকে ধরা হয় পিতৃপক্ষ হিসাবে।পুরাণ মতে এই সময় পূর্বপুরুষেরা মনুষ্যলোকের কাছাকাছি চলে আসেন। কিছু উৎসর্গ করলে সহজেই তাঁরা পেয়ে যান। পিতৃপক্ষের শেষদিন ও দেবীপক্ষের আগমনের সন্ধিক্ষণ হ’ল মহালয়া যেদিন পিতৃপুরুষদের স্মরণ ও মননের মাধ্যমে তর্পণ করা হয়। তবে আজও মহালয়া বলতে মানুষ বোঝে বেতারে ভোর চারটে র “মহিষাসুর মর্দ্দিনী”। আপনা থেকেই ঘুম ভেঙে যায়। কানে এসে ধাক্কা দেয় সেই চেনা ভাষ্য—আশ্বি-নের শারদ প্রাতে…
ছোটখাটো মানুষটির বড় মাপের আওয়াজ। এক ও অদ্বিতীয় বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র তথা বীরূপাক্ষর গলা। এই স্মরণীয় সময়টির জন্য অনেকেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রেডিওটি এনে বসাতেন নির্দিষ্ট আসনে। বয়স্ক-বয়স্কা অনেকেই স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে হাতে ফুল নিয়ে বসতেন চন্ডী পাঠ শুনতে। সারা বছর ফাঁকা থাকলেও মহালয়ার কয়েকদিন আগে রেডিও মেরামতির দোকানে ভীড়। প্রতিটি কাজই শেষ করতে হবে মহালয়া
র আগের দিন। “মহিষাসুর মর্দ্দিনী”র কাহিনী রচনা করেছেন শ্রী বৈদ্যনাথ ভট্টাচাৰ্য যিনি বাণীকুমার নামেই সুপরিচিত। সঙ্গীত পরিচালনার ভার
পড়েছিল শ্রী পঙ্কজ কুমার মল্লিকের উপর।
প্রবন্ধ
দশেরা ও বিজয়া দশমী
ড. সোমালি চৌধুরী
October 07, 2026
দশেরা ও বিজয়া দশমী মূলত আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে পালিত একই দিনের দুটি আঞ্চলিক নাম। উত্তর, মধ্য ও পশ্চিম ভারতে দিনটি দশেরা নামে পরিচিত; আর বাংলায় এটি বিজয়া দশমী নামে দুর্গাপুজোর সমাপ্তি হিসেবে পালিত হয়।
*দশেরা অর্থাৎ ‘দশের বিনাশ’-এর পৌরাণিক তাৎপর্য-
উত্তর ও মধ্য ভারতে দশেরা প্রধানত শ্রীরামচন্দ্রের লঙ্কাধিপতি রাবণের উপর বিজয়ের উৎসব। রাবণ সীতাকে অপহরণ করলে শ্রীরাম তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং দীর্ঘ যুদ্ধের শেষে দশমী তিথিতে রাবণ পরাজিত ও নিহত হন। তাই দশেরায় রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদের কুশপুতুল দাহ করা হয়।
প্রবন্ধ
মুকশিমপাড়া গ্রামের কিছু কথা
বিদ্যাধর মুখার্জী
October 05, 2026
পূর্বস্থলী ২নং ব্লকের অন্তর্গত মুকশিমপাড়া গ্রাম-পঞ্চায়েতাধীন মুকশিমপাড়া একটি প্রান্তিক গ্রাম। গ্রামটিতে যেতে গেলে পাটুলী স্টেশনে নেমে অটোতে যাওয়া যায়। গ্রামের পূর্বদিকে গাঁ বাগান, পশ্চিমে বিস্তীর্ণ মাঠের পর হাল্দিপাড়া গ্ৰাম-এর সংলগ্ন খড়ি নদী-ওপারে মন্তেশ্বর থানার অন্তর্গত সমসপুর গ্রাম, দক্ষিণ পশ্চিম ও দক্ষিণে ইসবপুর, দক্ষিণ পূর্বে বারোরপাড়া, উত্তরে মানমোষপাড়া,তারপরেই বুড়োরাজ তথা ধর্মরাজ মন্দিরখ্যাত গ্রাম জামালপুর। আজ পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণ হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম, গ্রামের চার প্রান্তে-বাউরি পাড়া, বাগ পাড়া, সাঁওতাল পাড়া, হাজরা অর্থাৎ হাড়ী সম্প্রদায়। মাঝখানে আছে মুখার্জী, চ্যাটার্জী, ভট্টাচার্য, হালদার (এঁরা বাবু’ অর্থাৎ জমিদার, ব্যানার্জী-হালদার পাওয়া উপাধি ) – আছে কর্মকার, বৈরাগ্য, দাস , পাল, বিশ্বাস, ঘোষ, মন্ডল, বন্ধু ইত্যাদি। এখন বাউরি ও বাগদি সম্প্রদায়ই সমধিক। গ্রামটি থেকে বহু মানুষ ভারতবর্ষ তথা বিদেশের বিভিন্ন শহরে বাস করেন, বাইরে থাকা শুধু মুখার্জীরাই এসে জড়ো হলে তারা একটি গ্রাম তৈরী হতে পারে।
স্বাধীনতার বহু বছর আগে থেকেই গ্রামটির জাঁকজমক ছিল চোখে পড়ার মত , তুলনায় পার্শ্ববর্তী গ্ৰামগুলি ছিল দীন-হীন-মলিন-বিবর্ণ ৷ আজ কিছুটা উল্টো চেহারা।
প্রবন্ধ
বাংলা কথায় দক্ষিণী সুর বসালেন রবীন্দ্রনাথ
রাহুল হালদার
October 01, 2026
১৯২৮ সাল,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদেশে যাওয়ার পথে মাদ্রাজের কাছে আডিয়ারে আ্যনি বেসান্ট প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁরই আমন্ত্রণে থিয়জফিকেল সোসাইটিতে কয়েকদিনের জন্য বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।সেই বিশ্রামকালের কোন এক অবসর মুহুর্তে একদিন থিয়জফিকেল সোসাইটির ‘গিন্ডি হাই স্কুলের’ একজন ছাত্রীর কন্ঠে গান শোনেন।ছোট মেয়েটির কন্ঠে গাওয়া গান কবিগুরুকে প্রসন্ন করায় ছাত্রীটিকে সামনে থেকে দেখবার আর আরো গান শোনবার জন্য ডাক আসে গুরুদেবের থেকে।
রবীন্দ্রনাথ যার কন্ঠে গান শুনেছিলেন তার কাকা ছিলেন সেই সোসাইটির সদস্য। কাকার ইচ্ছায় ছাত্রীটিকে গান শোনানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হলে প্রথমে ছাত্রীটি বলেছিলো কোন বুড়ো মানুষের সঙ্গে সে দেখা করবে না। ছাত্রীটিকে কাকা নানা উপায়ে বোঝানোর পর সে গান গাইতে রাজি হল।
গল্প
মৃত্যু সংবাদ
অয়ন মুখোপাধ্যায়
September 30, 2026
নিজের মৃত্যুসংবাদ পড়ার সময় আমি ডিমসেদ্ধ খাচ্ছিলাম।
ডিমে তখনও নুন দিইনি। কাগজের তৃতীয় পাতার নীচে আমার ছবি—চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, গলায় মফস্সলের এক সাহিত্যসভা থেকে পাওয়া উত্তরীয়। ছবির নীচে বড় অক্ষরে লিখেছে—
“বিশিষ্ট কবি, নাট্যকর্মী ও সমাজসেবী অনিরুদ্ধ পাল আর নেই।”
ছবিটা আমার। নামটাও। শুধু ‘বিশিষ্ট’ শব্দটি জীবনে প্রথম আমার নামের আগে বসল, আর ‘আর নেই’ কথাটা একটু তাড়াহুড়ো করল।
প্রবন্ধ
মন্তেশ্বরের পিপলন গ্রামে পুরাকীর্তির খোঁজে: একটি সমীক্ষা
নির্ম্মলেন্দু পাল
September 29, 2026
কোন জনপদের পুরাকীর্তি বলতে সেই জনপদে অবস্থিত প্রাচীনকালে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য বা শিল্পকর্মকে বোঝায়,যা অতীতের নানান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করে কালজয়ী হয়ে জনপদে থিতু রয়েছে আজও। ক্ষেত্র সমীক্ষায় অগণিত প্রত্নসম্পদ যেমন মুগ্ধ করে তেমনি পুরাতাত্ত্বিক স্থান বিলুপ্ত হতে দেখলে হতাশ হতে হয়। তবু প্রাচীন লোকায়েত গ্রামের নাম, প্রাচীন দেব দেবীর লৌকিক বিশ্বাসে জারিত হয়ে উপস্থিতি তৎসংক্রান্ত বৈচিত্র্যধর্মী লোকাচার নতুন ভাবনার খোরাক যোগায়।
পুরাকীর্তি হল অতীতের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। এগুলি সবই অতীতে নির্মীয়মাণ স্থাপত্য, ভাস্কর্য। যা অতীতের স্মৃতি হয়ে কালের স্বাক্ষ্য বহন করছে আজও বিভিন্ন জনপদে।
গল্প
হারানো চিঠি
স্নেহাশ্রী মল্লিক
September 22, 2026
বাড়িটা বিক্রি হয়ে যাবে—খবরটা শুনে অদ্ভুত কিছু অনুভব হয়নি অদিতির। বরং মনে হয়েছিল, কিছু বাড়ি আসলে অনেক আগেই আমাদের ছেড়ে চলে যায়; শুধু তাদের দেওয়ালগুলো কিছুদিন অপেক্ষা করে।
বারো বছর পর সে ফিরেছিল।
শীতের শেষ বিকেল। উঠোনে শুকনো পাতার শব্দ, জানালার কাঁচে ধুলোর আস্তরণ, আর পুরোনো কাঠের আলমারিতে আটকে থাকা এক ধরনের গন্ধ—যেন সময়কে কোনো ঘরে বন্ধ করে রাখা যায়।
ঘর গোছাতে গিয়ে অদিতি তার বাবার পুরোনো লেখার টেবিলটা সরাচ্ছিল। টেবিলের নিচে একটা উপন্যাস পড়ে ছিল। বইটা তুলতেই মেঝেতে পড়ে গেল একটি হলদে খাম।
প্রবন্ধ
বেতারের নেপথ্যে কিছু কথা
নরেশ মণ্ডল
September 22, 2026
মিডিয়ার যেমন নেপথ্য কাহিনি থাকে তেমন নাটক, চলচ্চিত্র থেকে আরও অনেক ক্ষেত্রেই আছে। আমাদের আলোচনার বিষয় যেহেতু নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্রে। সেদিকেই নজর দেওয়া যায়। বেতারের ব্যাপারটাই অন্যরকম। দৃশ্যমান কোনও কিছু নেই। শব্দই প্রধান। নিটোল গল্প শ্রুতিনাটক হিসাবে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে নাট্যকারকে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয়। শব্দের মাধ্যমে ঘটনাকে শেষ পর্যন্ত টান টান অবস্থায় নিয়ে যাওয়া। নাট্য পরিচালককে সবসময় সময়কে মেনে চলতে হয়। তা সে মূল লেখা যত বড় হোক। দু’পাতার গল্পকে দু’মিনিটে শেষ করার ক্ষেত্রে বাধা আছে। সেই কাহিনিকেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত টেনে নিতে হয়। এক্ষেত্রে বেতার নাট্যকারকে মূল রচনার কিছু অংশ ছাঁটকাট করতে বা সংযোজন করতে হয়।
প্রবন্ধ
ইতিহাস উপেক্ষিত এক শিক্ষকঃ পণ্ডিত প্রবর বুনো রামনাথ তর্কসিদ্ধান্ত
বিপ্লব ভট্টাচার্য্য
September 20, 2026
কান্তিচন্দ্র রাঢ়ী মহাশয় নবদ্বীপমহিমা পুস্তকের শেষাংশে লেখা হয়েছ রামনাথ তর্কসিদ্ধান্ত নবদ্বীপবাসী ছিলেন না। তিনি ধাত্রীগ্রামের গুরু-বংশীয় অভয়রাম তর্কভুষণের পুত্র ছিলেন। কেউ যদি যখন জিজ্ঞাসা করেন, মহাশয় আপনার নিবাস কোথায়? প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি হলে, আমরা সেই গ্রামের নাম না বলে, পাশাপাশি কোনো বড়ো গ্রাম বা শহরের নাম বলি। সেই রকমই রামনাথ মহাশয় কোনো কোনো সময় বলতেন তাঁর বাড়ি ধাত্রীগ্রামে। আসলে রামনাথের বাড়ি ছিল ধাত্রীগ্রাম থেকে মাইল দশেক পশ্চিমে সহজপুর গ্রামে। যে গ্রামটি কালনা থানার অন্তর্গত এবং কাঁকুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্ভুক্ত। এই একই সময় নবদ্বীপে দুইজন রামনাথ তর্কসিদ্ধান্ত ছিলেন। একজন নৈয়ায়িক। অন্য জন স্মার্ত। যিনি স্মার্ত ছিলেন তাকে বলা হত বুনো রামনাথ।
গল্প
খিদে
সুদীপ ঘোষাল
September 18, 2026
দুই বন্ধু, অসীম ও বিপুল কথা বলে জীবনের বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে।
– উদরহীন মানুষ, যার খাওয়ার প্রয়োজন নেই,যদি এমন হত?
– এরকম হয় নাকি?
– হয় হয়, ফুটপাতে,রেলস্টেশনে শত শত উদরহীন মানুষ, কেমন ঘর সাজিয়ে, খিদে লুকিয়ে,দীর্ঘশ্বাস গিলে খায় ,দেখিস না।
– তুই মানসিক চিকিৎসা করা, সাইকো কোথাকার।
বিপুল তার বিপুল খিদের পেট নিয়ে খেতে খেতে এগিয়ে চলে।প্রথমে খায় মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিং, সেতু, সরকারি আবাস মায় লোহার টিউবওয়েল,পায়খানা ঘর পর্যন্ত।
প্রবন্ধ
দেবদাস ও হাতিপোতা, যেখানে কল্পনা মিশেছে বাস্তবে
পুলক মন্ডল
September 14, 2026
কিছু কিছু জায়গা ইতিহাসের মানচিত্রে যতটা ছোট, মানুষের স্মৃতিতে তার চেয়ে অনেক বড়। পূর্ব বর্ধমানের কালনার হাতিপোতা তেমনই একটি নাম। ভাগীরথীর কাছাকাছি এই গ্রামটির নাম উচ্চারিত হলেই মনে পড়ে বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ প্রেমকাহিনি যা শুধু বিয়োগান্তক, বিরহের বা বিচ্ছেদের নয়, যা সর্বকালীন, যা সার্বজনীন—শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবদাস।
উপন্যাসে শরৎচন্দ্র লিখেছেন-
“পার্বতীর পিতা কাল রাত্রে বাটী ফিরিয়াছেন। এ কয়দিন তিনি পাত্র স্থির করিতে বাহিরে গিয়াছিলেন। এখন বিবাহের সমস্ত স্থির করিয়া ঘরে আসিয়াছেন। পাত্র প্রায় কুড়ি-পঁচিশ ক্রোশ দূরে বর্ধমান জেলায় হাতীপোতা গ্রামের জমিদার ভুবন চৌধুরী। তাঁহার অবস্থা ভাল, বয়স চল্লিশের নীচেই,—গত বৎসর স্ত্রীবিয়োগ হইয়াছে, তাই আবার বিবাহ করিবেন।”
গল্প
স্বপ্নে দেখা স্বাধীনতা
সোমনাথ ব্যানার্জী
September 14, 2026
স্বাধীনতা আন্দোলনের কিছু দিক কে তুলে ধরার জন্য আসল ঘটনায় থাকা বিপ্লবীদের সাথে গল্পের খাতিরে দুই তিনজন কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কিছু বিপ্লবীর নাম ছাড়া আর কিছু জানতে পারিনি তাই, তাদের নাম টাও অন্তত জানার জন্য গল্পে কিছু কল্পনা থেকে যোগ করেছি।
“নমস্কার! আমি অধীর বক্সি। বলছি, প্রমথ বাবু বাড়ি আছেন?” আমি জিজ্ঞাসা করলাম। “উনি অসুস্থ, আপনি পরে আসুন”, বললেন সেই বাড়ির একজন মধ্য বয়স্কা মহিলা। “কাল ই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।” আমি বললাম,” আমি কিছু প্রশ্ন করেই চলে যাব। আমি নবযুগ পত্রিকা থেকে এসেছি। বেশিক্ষণ নেব না।”
ভিতর থেকে পৌঢ়র আওয়াজ এল।” ওকে আসতে দাও, মা।”
আর কিছু না বলে আমাকে দরজা ছেড়ে দিল। পুরোনো দিনের ছোট বাড়ি, ভগ্নদশা। কড়িবর্গা গুলোর অবস্থাও ভালো না। তিনটি ঘর ও সামনে উঠোন নিয়ে বাড়ি। এর ই শেষ ঘর টায় একজন বয়স্ক একটা চৌকি তে শুয়ে আছে। বয়স প্রায় ৮০ এর কাছাকাছি হবে। শরীর ভেঙে গেছে, জেলের ধকল ও সাথে রয়েছে। বিষন্নতার ছাপ মুখে স্পষ্ট। খাটের পাশের ছোট্ট জানালার দিকে তাকিয়ে বসে আছেন। ঘর টি তে তেমন আলো ঢোকে না। আমি ঢুকতেই বললেন,” কি জানতে চাও বাবা?” আমি বললাম,” কিছু প্রশ্ন আছে। গত পরশুর ঘটনা ও আপনার জীবনের প্রথম দিকের কিছু ঘটনা নিয়ে আমরা খবরের কাগজে ছাপাব। আপনাকে যে দেশদ্রোহী তকমা দেওয়া হচ্ছে, সেবিষয়ে নিয়ে আপনার কি বক্তব্য, তাও আমরা ছাপাব।
প্রবন্ধ
ইতিহাস ঐতিহ্যের আলোয় নিশ্চিন্তপুরের মা বিশালাক্ষী
বিশ্বজিৎ রায়
September 12, 2026
ইতিহাস কখনো মানুষের কথা বলে , সভ্যতা তারই অনুলিখিত অভিক্ষেপণ। আর এই ইতিহাস চর্চায় আজ আমরা আলোকপাত করব স্থানীয় গ্রাম নিশ্চিন্তপুরের ঐতিহ্যবাহী দেবী বিশালাক্ষী মাতার প্রতিষ্ঠা ও পূজা আরাধনার।
অধুনা পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমার অন্তর্গত বাঘনা পাড়া পঞ্চায়েতের অধীনে অবস্থিত নিশ্চিন্তপুর গ্রামটি। প্রথমে আমরা প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জনপদ বাঘনাপাড়া সম্পর্কে দু-এক কথা বলি।
জনশ্রুতি আছে, প্রাচীনকালে ব্যঘ্রপাদ ঋষি নামে একজন তান্ত্রিক এই জনপদে বাস করতেন। তার নামানুসারে ব্যঘ্র পাঠক আশ্রম বা ব্যঘ্র পদাশ্রম নামে পরিচিত হয় জনপদটি। সেইমতো ভাগনাপাড়া বা বাঘনাপাড়া নামটি জনমানসে স্বীকৃতি লাভ করে।
প্রবন্ধ
ঈশানী নদীর আত্মকথা
রাজীব কুণ্ডু
September 10, 2026
পূর্ব বর্ধমান জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত রাঢ় বঙ্গের একটি অন্যতম নদী হল ঈশানী। বীরভূম জেলার চিতগ্রাম-উড়ুন্দির মধ্যে এক সারগাদা বা ক্যানেল বা জলের নালা থেকে উৎপন্ন হয়ে কেতুগ্রামের উপর দিয়ে পূর্ব বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদের সীমান্ত ঘেঁষে গোমাই , অম্বল, বেলুন, খাঁরুলিয়ার পাশ দিয়ে গঙ্গাটিকুরি গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শিবলুনের কাছে দু ভাগে বিভক্ত হয়েও মাসিসেঁকোর কাছে পুনরায় ঈশানী মিলিত হয়ে এর মিলিত প্রবাহটি শাঁখাইয়ের কাছে অজয় নদীতে পড়েছে। ঈশানী নদীর প্রবাহ পথের দুই পাড়ের সৌন্দর্য আমাদের মনকে মোহিত করে। শরৎকালের কাশ ফুলের বন নদীর তীরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অপরূপ মোহময় করে তোলে। নদীর জল প্রবাহের কুলকুল – কলতান মনের গভীরে এক অনুভূতির সঞ্চার করে। বিশেষ করে পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় নদীর মনমোহিনী রূপকে যেন এক স্বর্গীয় সৌন্দর্য প্রদান করে।
প্রবন্ধ
ভয়, হাতি ও মানুষের অন্তর্লোক ‘হাওয়াভূত আর হাতির গল্প’-এর পাঠ
অয়ন মুখোপাধ্যায়
August 28, 2026
গত শুক্রবার, ১০ তারিখে গিরিশ মঞ্চের আলো-আঁধারি থেকে বেরিয়ে আসার পরেও আমার মাথার ভেতর অনেকক্ষণ একটা অবশ হাওয়া অদ্ভুতভাবে ঘুরপাক খাচ্ছিল। কারণ গিরিশ মঞ্চে ‘হাওয়াভূত আর হাতির গল্প’ নাটকটি দেখার পর আমাদের নিজেদের সময়েরই এক অলীর রূপকথা যেন নির্মম আয়নার সামনে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। আমি স্বীকার করি, আনন্দপুর ‘গুজব’ প্রযোজিত এই নামটি আমাকে কবিতার মতো এক স্বপ্নময় বিষণ্নতার দিকে নিয়ে যায়। আর নাটকের ভেতরের কাব্যময়তা, বাস্তব ও অবাস্তব, লোককথা ও রাজনৈতিক রূপক, শিশুমন ও প্রাপ্তবয়স্কের নির্মম অভিজ্ঞতাকে এক অদ্ভুত মিশ্রণে শেষ পর্যন্ত মিলেমিশে যায়।
প্রথম দেখার পর অনেকের কাছেই মনে হতে পারে নাটকটি আসলে নিছক কল্পলোকের রূপকথা। কিন্তু কাহিনির স্তরগুলো একে একে উন্মোচিত হতে দেখলে বুঝতে পারবেন, এর শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত—যেখানে নাটকের মূল সুর আজকের সমাজ, এমনকি মানুষের আবহমান সমষ্টিগত অবচেতন কে টান মারে। বাংলা লোক কথায় আমাদের কাছে ভূত শুধুমাত্র অতিপ্রাকৃত কোনো সত্তা নয়; বহু সময়ই তা অদৃশ্য ভয়, সামাজিক নিষেধ এবং ক্ষমতার রূপক।
প্রবন্ধ
ধর্মনিরপেক্ষতা, সহিষ্ণুতা ও ভারতীয় সংস্কৃতি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টিভঙ্গী
কৌশিক দে
August 5, 2026
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মননে ও দর্শনে ভারতবর্ষ কেবল একটি ভৌগোলিক সীমারেখা বা রাজনৈতিক রাষ্ট্র ছিল না; তাঁর কাছে ভারতবর্ষ ছিল এক আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক মহামিলনের তীর্থক্ষেত্র। বর্তমান বিশ্বে যখন ধর্মান্ধতা ও অসহিষ্ণুতা সমাজের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে, তখন রবীন্দ্রনাথের ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘সহিষ্ণুতা’র ধারণা আমাদের জন্য এক আলোকবর্তিকা স্বরূপ। ভারতবর্ষের আত্মপরিচয়ের মূল সুর যদি একটি শব্দে প্রকাশ করতে হয়, তবে সেই শব্দটি হবে “সমন্বয়”। এই সমন্বয়ের মধ্যেই নিহিত রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা, সহিষ্ণুতা এবং বহুত্ববাদী সংস্কৃতির অনন্ত ঐতিহ্য।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ “ভারততীর্থ”-এ ভারতবর্ষকে এমন এক মিলনভূমি হিসেবে কল্পনা করেছেন, যেখানে নানা জাতি, নানা ভাষা ও নানা ধর্মের মানুষ এক মানবিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। তিনি লিখেছেন,
“হেথায় আর্য, হেথা অনার্য, হেথায় দ্রাবিড়-চীন,
শক-হূণ-দল পাঠান-মোগল এক দেহে হল লীন।”
উৎস: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভারততীর্থ (কাব্যগ্রন্থ: পূরবী)
প্রবন্ধ
আড়াইশো বছরের প্রাচীন কালনার মহিষমর্দিনী পুজো
পুলক মণ্ডল
August 1, 2026
দেবী দুর্গার আর এক নাম মহিষাসুরমর্দিনী। সেটাই কালক্রমে রুপ নিল মহিষমর্দিনী। দেবীর এই ভিন্ন রূপের আরাধনা হয় পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্ধমান জেলার কালনা শহরে।
কয়েক বছর আগেই আড়াইশো বছর পার করেছে গোটা বাংলার ঐতিহ্যপূর্ণ মহিষমর্দিনী পুজো। হাওড়া-কাটোয়া রেলপথে কালনার দূরত্ব আশি কিমি। ভাগীরথীর পাড়ে ছোট শহর কালনা। কিন্তু স্থাপত্যে ও ঐতিহ্যে রাজ্যের অন্যতম সাংস্কৃতিক পীঠস্থান। একদা বর্ধমান রাজ পরিবারের উদ্যোগে এখানে গড়ে উঠেছিল একের পর এক স্থাপত্য ও পুরাকীর্তি। তৈরি হয়েছিল শহরের শেষ প্রান্তে ভাগীরথীর পাড়ে নয়াগঞ্জ। তখনকার এই নয়াগঞ্জে ছিল ব্যাবসায়ীদের রমরমা। সারাদিন রাত তখন ভাগীরথীর ঘাটগুলিতে ভিড়ত একের পর এক পণ্য বোঝাই নৌকা আর জাহাজ। কালনা তখন দেশের মধ্যে এক নামকরা বাণিজ্যকেন্দ্র। নদীপথে চাল, ডাল, তেল, নুন সহ নানা সামগ্রী তখন কালনা থেকে যেত দেশের নানা প্রান্তে।
প্রবন্ধ
কালনার রথের ইতিহাস
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
July 24, 2026
আজকে উল্টো রথ সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে। কালনার জন্য এটি একটি শুভ দিন, কারণ এ বছর এই রথযাত্রা সরকারি সাহায্য পেয়েছে। রথের দিন কালনাবাসী খুব আনন্দ করেছে ৷ আসুন একবার দেখে নিই কবে থেকে কালনাতে রথযাত্রার সূচনা হয়েছিল।কালনা ছিল বর্ধমান রাজ পরিবারের কাছে বারানসী সমতূল্য পবিত্র স্থান ৷ পূর্ববর্ধমান জেলার ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান কালনা ৷
প্রবন্ধ
ইতিহাস, পুরাণ এবং ধর্মতত্ত্বের প্রেক্ষাপটে জগন্নাথদেব রথ এবং রথযাত্রা
সিদ্ধেশ্বর আচার্য্য
July 12, 2026
রথ একটি প্রাচীন যান। বৈদিক এবং রামায়ণ মহাভারতের যুগে এই যানটির উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন গ্রীস, রোম সাম্রাজ্যে এই যানটি যুদ্ধ বিগ্রহ এবং মনুষ্য স্থানান্তরের কাজে ব্যবহার করা হত। প্রাচীন মিশরেও এই যানটির ব্যবহার দেখা যায়। প্রায় সব দেশের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে এবং মহাকাব্যে রথ নামক যানটির নির্মাণের কৃৎ কৌশল ও গঠনের বর্ণনা দেওয়া আছে। বেনহুর চলচ্চিত্রে রথের (Chariot) প্রতিযোগিতার দৃশ্যে প্রাচীন কালে রোমান সাম্রাজ্যের রথের অবয়ব সম্বন্ধে একটা স্পষ্ট ধারণা করা যায়। আমাদের দেশে রামায়ণ মহাভারতের কাহিনী গ্রন্থে যোদ্ধাদের রথ আকাশ পথে পুষ্পক রথ আখ্যায়িত হয়ে শূণ্য মার্গে পরিভ্রমণ করতো। সাত ঘোড়ায় টানা রথে সূর্যদেব প্রতিদিন বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড পরিভ্রমণ করে চলেছেন। আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থে এই সব রথের যে বর্ণনা দেওয়া থাকে তার সঙ্গে বর্তমান জগন্নাথ দেবের রথ এবং ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে দেবদেবীকে বিভিন্ন সময়ে যে রথে চাপানো হয় তার আকৃতি এবং গঠন এক নয়। প্রাচীনকালে ভারতে বা ইউরোপে রথের চেহারার বর্ণনা সাধারণত দেখা যায় একটি দু চাকার যান, মাথার উপরে একটি ছত্র থাকে, (ইউরোপে ছত্র প্রায় থাকে না) পিছনের দিক আচ্ছাদন থাকে এবং তিনদিক উন্মুক্ত। এক বা দুজন আরোহী এবং একজন চালকের স্থান সংকুলান হয়। আদিম সভ্যতায় চাকা আবিষ্কারের পরই মানুষ গতিকে আয়ত্ব করতে সক্ষম হয়েছিল। চাকা ব্যবহারের বিবর্তনের ফল স্বরুপ দুই এবং দুয়ের অধিক চাকা যুক্ত করে নানা ধরণের যান নির্মাণ হয়েছে। এই রথ (Chariot) হল আদিম যানের রূপান্তরিত শকট। মনে হয় সর্বপ্রথম এই আদিম যানটির সঙ্গে দুই এবং ততোধিক চাকা যুক্ত করে যানটি পাটাতনের উপর মন্দির (দারু নির্মিত) স্থাপনা করে রথ (Chariot) যানটির নব রূপায়ন এই ভারতবর্ষেই আবিষ্কার (Discover) হয়েছিল।
গল্প
সবাই ভালো
শ্রী রায়
July 07, 2026
গ্রামের ধানক্ষেতের মাঝখানে, পাকারাস্তা থেকে একটু ভিতরে একটা তালগাছ ছিল। বেঁটে খাটো গাছ। তাল হতো না। কেবল জট বের হতো। ওগুলো আসলে তালগাছের ফুলের মঞ্জরী। শুকিয়ে গেলে জটার মতো দেখতে হতো। জোরে বাতাস বইলে ঝরে পড়ত মাটিতে।
সেই গাছটায় বছর দুয়েক ধরে একটা একপেয়ে একানড়ে এসে বসবাস করতে শুরু করেছে। মাঠে চাষ করার সময় চাষীরা বুঝতে পারত ঐ গাছটায় কিছু একটা আছে। অনেকে আবার রাতের অন্ধকারে ফাঁকা মাঠে তালগাছটা থেকে ঝুরঝুর করে আগুনের ফুলকি ঝরে পড়তেও দেখেছে।
ভূতটা অশরীরী হয়েই ছিল, কাউকে দেখা দেয়নি কোনো অনিষ্টও করেনি বরং ও আসার ফলে চাষবাসের উন্নতি দেখা দিল। ফলে গ্রামের মানুষেরা আদর করে একানড়েটাকে তালভূত বলে ডাকতে লাগল।
একদিন এক চাষীবউ নয়নতারা নাম, সে তার চাষী বরকে দুপুরের খাবার দিতে এসেছিল। তারসঙ্গে ছিল ভাত, ডাল আর আলুভাজা।
চাষী সেগুলো সপ সপ্ করে খেয়ে নিল। ভাত খাওয়ার পর চাষী বউ তার শাড়ির কোঁচড় থেকে ছোট্ট একটা কৌটো বের করল। তার মধ্যে ছিল নটা তালের বড়া। চারটে চাষী খেল চারটে খেল চাষীর বউ। বাকি রইল একটা।
Advertisement
📜 CALL FOR SUBMISSIONS 📜
Bhasapath invites submissions for its upcoming issue, themed:
“The Fall”
Inspired by John Milton’s Paradise Lost
How do you interpret the Fall?
Whether through poetry, prose, or critical articles we invite you to engage with the theme in your own way.
You may choose to:
- Reimagine and reinterpret Paradise Lost from the perspectives of its characters, such as Satan, Adam, or Eve
• Explore alternate endings and narratives
• Reflect on ideas of temptation, rebellion, free will, loss, exile, redemption, and disobedience
• Critically engage with Paradise Lost and its themes
We welcome:
✦ Poetry (Word Limit: 20 lines)
✦ Prose (Word Limit: 1000 words)
✦ Critical Articles (Word Limit: 1500 words)
Submission Guidelines
- Language: English
- Original, unpublished work only
- Deadline: To be announced
- Submissions are to be emailed at bhasapathenglishmagazine@gmail.com
We look forward to reading your work.
সাংস্কৃতিক সংবাদ
জীবন কৃতী সম্মান সিদ্ধেশ্বর আচার্য্যর
June 18, 2026
বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে আছেন ৷ এর মধ্যে কিডনি জনিত অপারেশনও হয়েছে কলকাতার একটি নামী বেসরকারী হাসপাতালে ৷ কালনাতেও ভর্ত্তি ছিলেন একটি নার্সিংহোমে ৷ এ অবস্থায় তিনি বাইরের জগতের থেকে অনেকটাই দূরে আছেন ৷ এ অবস্থায় সম্প্রতি সিদ্ধেশ্বর বাবুর বাড়ি গিয়ে তাঁকে সম্মানিত করে এলেন ভাষাপথের একদল সদস্য ৷ উল্লেখ্য তিনি নিজেও ভাষাপথের প্রধান উপদেষ্টা ৷
প্রবন্ধ
ডলারের দম্ভ বনাম ফ্লেমিঙ্গোর ডানা: ট্রাম্পের জামাইয়ের বিলাসবহুল রিসর্ট ও এক অবরুদ্ধ রাজধানীর রূপকথা
অয়ন মুখোপাধ্যায়
June 17, 2026
দূর আলবেনিয়ার সমুদ্র উপকূল। নোনা বাতাস আজ ভারী। সেখানে হঠাৎ ডানা ঝাপটাচ্ছে একঝাঁক ফ্লেমিঙ্গো। এই গোলাপি ডানা আজ শুধু ওড়ার জন্য ছটফট করছে না। তারা যেন এক কর্পোরেট কফিনের ওপর মৃত্যুর পরোয়ানা লিখছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার অলিন্দে জ্যারেড কুশনারের বাস। সম্পর্কে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই। এই কুশনারের লোভী চোখ পড়েছে আলবেনিয়ার শান্ত প্রকৃতির বুকে। কুশনার সাহেবদের ডলারের পাহাড় আছে। তাঁদের কাছে আলবেনিয়ার এই নোনা জল আর পরিযায়ী পাখির কলকাকলি নেহাতই এক ফালতু বিলাসিতা। তাই সেখানে মাথা তুলবে দশ হাজার ঘরের এক দানবীয় বিলাসবহুল রিসর্ট। প্রকৃতির ফুসফুসটা খুবলে নিতে চাইছে কুসনার সাহেব। সেখানে বসানো হবে কংক্রিটের এক কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড।
কিন্তু হিসাবের খাতায় একটা মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছেন এই মার্কিন ধনকুবের। তিনি ভুলে গেছেন এক আশ্চর্য আদিম প্রতিরোধের কথা। পুঁজির দম্ভ যেখানেই প্রকৃতিকে রক্তগঙ্গায় ভাসাতে চাইছে, ঠিক সেখানেই গড়ে উঠছে প্রতিরোধ ।
প্রবন্ধ
বৈষ্ণব সাহিত্যর অনুসারী মাতৃ সাধক ভবা পাগলা
সত্যেন্দ্র প্রসাদ নন্দী
June 01, 2026
যুগে যুগে বাংলা সাহিত্যের সম্ভারকে রত্নখচিত করে তুলেছেন বিভিন্ন মতের সাধক। বৈষ্ণব, বৈষ্ণবসহজিয়া, বাউল, মরমিবাদ, ফকিরি, সুফি এবং শাক্তপদাবলীর বিভিন্ন রচনা। ভবা পাগলা হলেন বিংশ শতাব্দীর এক জন অন্যন্য সাধক। ব্যক্তিত্বগত প্রতিভায় যে স্বাক্ষর রেখেছেন তা শুধু অনস্বীকার্য নয় গবেষকদের গবেষণার বস্তুগত উপাদান। একজন মানুষ থেকে তাঁর সিদ্ধ পুরুষে রূপান্তরের ক্ষেত্রে যে সকল বিশেষণে তাঁকে প্রতীয়মান করা হোক না কেন, সকল বিশেষণই তাঁর কাছে যেন ক্লিশে হয়ে পড়ে। তিনি তাঁর সাধনায় সিদ্ধ সাধক, মহাপুরুষে উত্তোরণ, উত্তর প্রজন্মের কাছে মহামানব।
চিঠি
অভয়া কে একটি খোলা চিঠি
স্বপ্নেশ গুপ্ত
May 28, 2026
অভয়া,
কোথায় আছেন জানি না। কেমন আছেন তাও জানি না। জানার উপায়ও নেই। এখনো কি আশা করেন? স্বপ্ন দেখেন? নাকি এত দিন ধরে সুবিচার থেকে বঞ্চিত হবার তীব্র বেদনায়, অবসাদে, হতাশায় আপনার আশার মৃত্যু হয়েছে। স্বপ্ন দেখার ইচ্ছা আপনি হারিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন রাতের পর রাত জেগেও আমাদের চোখে ঘুম নেই। লাঞ্ছনা, অত্যাচার, অপমান, নিগ্রহ, হুমকি, ধমক, চমকানির পরেও আপনার বোনেরা, দিদিরা, মা -কাকিমা রা, দাদা রা ভাইরা, কাকারা, জ্যাঠারা জেগে আছি। প্রতি মুহূর্তে আমরা তীব্র যন্ত্রণায় বিবশ হয়ে গেছি কারণ আমরা দেখেছি আমাদের চোখের সামনে রাজপথে বীর দর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেই শ্বাপদ রা যারা আপনার হত্যার জন্য পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী।
প্রবন্ধ
রবীন্দ্র বীক্ষায় শিব
স্বপ্নেশ গুপ্ত
May 13, 2026
রবীন্দ্র নাথ ধর্ম বিশ্বাসের দিক থেকে ব্রাহ্ম ছিলেন। খুব স্বাভাবিক ভাবেই তাই তিনি পৌত্তলিকতায় বিশ্বাস করতেন না। এমন কী সারা জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি মূর্তি পূজোর বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে এও লক্ষ্যনীয় তিনি শিবের বন্দনা করেছেন। ধ্যান মন্ত্র এমন কী বিবিধ পুরাণে শিবের যে ভিন্ন ভিন্ন রূপ বৈশিষ্টের বার্ণনা আছে রবীন্দ্র নাথ তাঁর কবিতায়, গানে, প্রবন্ধে সেই রূপ গুলির এবং শিবের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্টের প্রতি তাঁর প্রণতি নিবেদন করেছেন। আসলে সত্য, সুন্দরের পূজারী কবি সত্যম, শিবম, সুন্দরমের প্রতি অর্ঘ্য নিবেদন করেছেন সুর, তাল, ছন্দ এবং শব্দের উপাচারে।
প্রবন্ধ
রবীন্দ্রনাথ ও ধর্ম
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
May 09, 2026
প্রবন্ধ
মন্দিরময় পাথরার কথা
সুতনু ঘোষ
May 09, 2026
ভ্রমণ
দ্য ল্যুভর (The Louvre)
মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী
April 22, 2026
আমার অনেকদিনের ইচ্ছে একবার ল্যুভর মিউজিয়ামটি দেখতে যাবার l এতো নামী দামী শিল্পীদের আঁকা ছবি এবং ভাস্কর্য সেখানে রয়েছে যে প্রত্যে কেরই হয়তো সে ইচ্ছে থেকে যায় l এবারের গ্রীষ্মের ছুটিতে তাই ভাবলাম বহুদিনের শখ যখন রয়েই গেছে তাহলে এবার সেটা পূর্ণ করেই নিই l তাই চল লাম প্যারিসের উদ্দেশ্যে l প্রথমে লন্ডনে পৌঁছে কদিন ঘোরাঘুরি করে ভিক্টরিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে টুরিস্ট বাসে চেপে ডোভার পোর্ট I সেখানে জাহাজের ভেতরেই বাস ঢুকে গেলো ,আরো অনেক বাস গাড়ি সব রয়েছে l আমাদে র সিট্ ছিল পাঁচতলায় ,ওখানে বসে কফি আর স্ন্যান্কস খেতে খেতে ইংলিশ চ্যানেল পার হতে থাকলাম l ইংলিশ চ্যানেলের তলা দিয়ে পাতাল রেলের ব্যবস্থাও আছে কিন্তু জাহাজে করে যাওয়ার মজাই আলাদাl ঘন্টা খানেক সময় লাগলো, ইংলিশ চ্যানেল পার হতে, ওপারে গিয়ে পৌছুলাম ক্যালে পোর্টেl সেখান থেকে আর অন্য কোথাও না গিয়ে সোজা প্যারিস l পর দিন সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে সোজা বিখ্যাত ল্যুভর মিউজি য়ামে l
প্রবন্ধ
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাসাহিত্যে জাতিভিত্তিক ভাবনা
কাঞ্চন ঘোষ (গবেষক, সিকম স্কিলস্ ইউনিভার্সিটি, কেন্দ্র ডাঙ্গাল, বোলপুর, বীরভূম)
April 17, 2026
বাংলা সাহিত্যে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে মাটির কাছ থেকে মাটির সঙ্গে মিশে সাহিত্য রচনায় ব্রতী ছিলেন। তাই তিনি মাটির শিল্পী প্রবৃত্তি ও নিয়তির বিচিত্র লীলার সার্থক রূপকার। গ্রামের সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের কথা তিনি উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। হিন্দু মুসলমান প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মানুষের কথা বিশেষ করে নিম্নবিত্ত মানুষের কথা বেশি করে উপন্যাসে স্থান পেয়েছে। তিনি মানুষের সঙ্গে মিশে মানুষের ধর্ম, বিশ্বাস, লোক ভাবনা, নীতি পরিচয়, মানবিক বোধ সমস্ত কিছুই বর্ণনা করেছেন। সেই জন্য তাঁর উপন্যাসে প্রাণের কথা, মনের কথা বেশি করে ফুটে উঠেছে।
প্রবন্ধ
নববর্ষ, হালখাতা ও প্রাচীন বাংলার বাণিজ্য
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (ইতিহাস পাঠক ও গবেষক)
April 15, 2026
১৪৩৩ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন ১ লা বৈশাখ যতটা না মাঙ্গলিক সংস্কৃতির পরিচায়ক তার চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্নদিন বাংলার ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ৷ বাংলা সন বা বর্ষের ইতিহাস অনেকদিনের ৷বহু প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের বঙ্গে সৌরকেন্দ্রিক বর্ষগননা হত ৷ মুঘল সম্রাট আকবর তার রাজত্বকালে দেখলেন এ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন বর্ষপঞ্জী , তখন ভারতে হিজরী সন গননা পদ্ধতিও চলছে ৷ কিন্তু কর আদায়ের ক্ষেত্রে এইসব বর্ষপঞ্জী ঠিকঠাক সুবিধাজনক হচ্ছে না ফলে তিনি তার রাজ জ্যোতিষি আমির ফতেউল্লাহ সিরাজীকে এমন এক ক্যালেন্ডার তৈরি করতে বলেন যা ফসল উৎপাদনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং সৌরকেন্দ্রীক এই পঞ্জিকায় হিজরী সনেরও গুরুত্ব থাকবে ৷এর আগে হিজরী সন অনুযায়ী কর আদায় অসুবিধাজনক ছিল ৷
প্রবন্ধ
পথপ্রান্তের দেবমূর্তি
তথাগত সেন
April 09, 2026
যে কোন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নাগাল পেতে হলে সেখানকার অতীত যুগের বিবিধ উপাদানের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়, এই উপাদান গুলি সেই অঞ্চলে বা তার সন্নিহিত অঞ্চলে হয়ত এক দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চিত রয়েছে। এই সঞ্চিত উপাদান বা আরও স্পষ্ট করে বললে বিবিধ প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান সেই অঞ্চলের মানুষের সাংস্কৃতিক ইতিহাস কে বোঝার জন্য একমাত্র বিবেচিত বস্তু হতে পারে। যদিও অনেক সময় প্রচলিত লোককাহিনি বা স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনির ওপর নির্ভর করতে হয়, তবে তা কখনই মূল ইতিহাস রচনার উপাদান নয় বরং এর থেকে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে মাত্র।
প্রবন্ধ
রেডিও নিয়ে দুচার কথা
দেবব্রত ঘোষ মলয়
April 02, 2026
তখন হাফপ্যান্ট। ঘুম থেকে উঠেই আমাদের প্রথম কাজ ছিল বাড়ির বিস্তীর্ণ বাগানের মধ্যে অবস্থিত পুকুরের বাঁধানো ঘাটে বসে দাঁত ব্রাশ করা (সে সময়ে আঙুল দিয়েই অথবা দাঁতন দিয়ে দাঁত মাজতাম আমরা)। বাবা আমাদের থেকেও ভোরে উঠে পড়ে পুকুরের পাড়ে গাছ গাছালি পরিচর্যা করতেন অফিসের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আগে পর্যন্ত। বাবার একটা ছোট্ট ট্রানজিস্টার ছিল ওই পুকুর পাড়েই বসানো থাকতে এবং তাতে সুন্দর সুন্দর গান হতো সকাল বেলা। তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট ছিল কাজল। ও হঠাৎ দাঁত মাজা বন্ধ করে চোখ গোল করে আমাকে জিজ্ঞেস করল – হ্যাঁরে মনাই, রেডিওর ভিতরে কি করে গান হয় বলতো? দাদা অগ্নিপাস থেকে বলে উঠলো – কি বোকা রে তুই এটাও জানিস না, রেডিওর ভিতরে লোকে বসে গান গায়। এরপর আমরা তিন ভাই গভীরভাবে ভাবতে বসলাম এত বড় মানুষগুলোকে কি উপায়ে এই ছোট্ট রেডিওর মধ্যে বসিয়ে দেওয়া হয়।
গল্প
রাশিচক্র
অয়ন মুখোপাধ্যায়
April 02, 2026
নদী মানুষের গল্প মনে রাখে না, সে শুধু স্রোতকেই মনে রাখে। মানুষের গল্প ফুরিয়ে যায়, স্রোত ফুরোয় না।
১৯৩০ সালের এক থমথমে রাত। গঙ্গার জল ধীরে ধীরে বয়ে যাচ্ছে। হাওড়া ব্রিজের লোহার রেলিংয়ে হাত রেখে এক তরুণ কালো জলের দিকে তাকিয়ে ছিল। দূরে কলকাতার গ্যাসবাতির আলো বিন্দু বিন্দু হয়ে ছড়িয়ে আছে। বাতাসে ভেসে আসছে জাহাজের সাইরেন। কিন্তু ওই আলো তার মনের অন্ধকারে পৌঁছচ্ছিল না।
পেছনে ট্রামের ঘণ্টা বাজছে। ঘোড়ার গাড়ির চাকা পাথুরে রাস্তায় শব্দ তুলে ছুটে যাচ্ছে। মানুষের ভিড় আরও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। অথচ এই বিরাট শহরে তার জন্য এক চিলতে জায়গাও নেই।
সন্তোষ নিজেকেই বলেছিল, “আজ রাত এগারোটার মধ্যে যদি চাকরির হিল্লে না হয়, তা হলে এই গঙ্গার কালো জলই হবে আমার শেষ ঠিকানা।”
প্রবন্ধ
বাংলায় চৈতন্য প্রভাবে ধর্ম , সমাজ ও সংস্কৃতিক বিপ্লব
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
March 19, 2026
বাংলা তথা বাঙালির সমাজ , ধর্ম এবং সংস্কৃতিকে যিনি সম্পূর্ণ এক নতুন ধারায় প্রবাহিত করে লুপ্ত হয়ে যাওয়ার থেকে বাঁচিয়েছিলেন তাঁর মনন ও মনীষার উৎকর্ষতার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির একান্ত গৌরাঙ্গ শ্রীচৈতন্যদেব ৷ আজ থেকে যদি আমরা ছয় শত বছর পিছিয়ে যাই তবে এই বাংলায় সে সময় ব্রাহ্মণ্যবাদের কঠোর পেষণ , সামাজিক ঘৃণা , অবজ্ঞা , বিদ্বেষ , সর্বোপরি অমানবিক আচরণে ব্রাত্য অবহেলিত অধিকারহীন হিন্দু সমাজের এক বৃহত্তর অংশ শিষ্ট সমাজের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিল ৷ ফলে নিন্মবর্ণের হিন্দু সমাজের একাংশ ইসলামের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছিল ৷ (বঙ্কিম রচনাবলী — যোগেশ চন্দ্র বাগল সম্পাদিত , ২য় খণ্ড , পৃ ২৯৩ ) এর ফলে বাংলার মুসলমানের সংখ্যা গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে ৷
প্রবন্ধ
বাঙালির প্রিয় কবি নজরুল
সুদীপ ঘোষাল
March 10, 2026
কবি নজরুল বন্ধুদের আড্ডায় ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হতেন আর সুরের অপূর্ব কন্ঠ নিয়ে তিনি মানুষকে আজীবন ভালবেসে গেছেন। যৌবন ধর্মের অতিরেকে সারা দেশটাকে চষে বেড়াতেন আনন্দের হিন্দোলে।বিদ্রোহী কবিতা ও গান লিখে তিনি বিদ্রোহী উপাধি পান দেশের জনগণের কাছে। কবিগুরু যৌবন মূর্তি নজরুলকে অতিশয় স্নেহ করতেন এখন পাঠকসমাজের নয়নতারা স্বরূপ গণ্য হয়েছিলেন। বিদেশি সরকারের রক্তচক্ষু অবহেলা করে দুরন্ত কবি, কবিতা গান ও প্রবন্ধের সাময়িকপত্রে আগুনের ফুলকি ছড়াতে লাগলেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শুরু হতে পারত তার লেখনীর গুণে । এর জন্য কিছু কলকাতায় কারারুদ্ধ থাকতে হয়েছিল বোধ হয় রাজনৈতিক চেতনার ক্ষেত্রে ইদানিং আর কোন কবি ও লেখক এতটা উদ্দীপনার সঞ্চার করতে পারেননি।
প্রবন্ধ
বিচক্ষণ শাসক সম্রাট আকবর
সোমনাথ ভট্টাচার্য্য
March 10, 2026
আকবরের শাসননীতি তাঁর বাস্তব রাজনীতির পরিচয় বহন করে। ভারতবর্ষের মুসলমান শাসকবর্গের মধ্যে আকবর ছিলেন সর্বাপেক্ষা উদার, পরধর্মমত-সহিষ্ণুতা, সমদৃষ্টি, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রবর্তক। কেবল মাত্র সমর কুশলীবীর হিসাবেই নয় একজন সুশাসক হিসাবেও শাসক আকবর ভারতবর্ষের রাজনীতিতে স্মরণীয় হয়ে আছেন। ভারতবর্ষে তিনিই প্রথম মুসলিম শাসক যিনি রাজনীতি থেকে ধর্মকে সম্পূর্ণ পৃথক করেন ও রাষ্ট্রকে উলেমাদের প্রভাব থেকে মুক্ত করে ভারতে একটি জাতীয় রাষ্ট্র গঠনে সচেষ্ট হন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল প্রজাকে সমান অধিকার ও মর্যদায় প্রতিষ্ঠিত করে শাসক আকবর ‘জাতীয় সম্রাট’ পরিণত হয়েছিলেন। শাসক আকবরের শাসন ব্যবস্থায় ‘প্রজাহিতৈষনা ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ ছিল মূল স্তম্ভ। প্রচলিত ভারতীয় রীতি-নীতি, গ্রামীন স্বায়ত্ব শাসন ব্যবস্থা কোন কিছুই শাসক আকবর উপেক্ষা করেননি। তাঁর শাসন ব্যবস্থা জনসাধারণের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। উদারতা, ধর্মসহিষ্ণুতা ও প্রজাবর্গের সর্বাধিক কল্যান সাধনই ছিল তাঁর শাসন নীতির মূল কাঠামো। ঐতিহাসিক Smith বলেন “From the time of Warren Hastings the newly constituted Anglo-Indian authorities began to grope their way back to the Institutions of Akbar”.
(পরবর্তী-মুঘল সম্রাটরা তো বটেই এমন কি ইংরেজ শাসক দল ও অনেকাংশে তাঁর শাসন
নীতি গ্রহণ করেন।)
প্রবন্ধ
কাশ্মীরের শারদাপীঠ ও বিশ্ববিদ্যালয়
প্রবীর আচার্য্য
March 08, 2026
সম্প্রতি আমেরিকা ভারত রাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। তাতে দেখানো হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অংশ। সে প্রসঙ্গেই এই প্রবন্ধের অবতারণা।
হিমালয় পর্বতমালার বহু উঁচুতে কাশ্মীর দেশে রয়েছে হরমুখ পর্বত। বর্তমানে জায়গাটা পাক অধিকৃত কাশ্মীর নামে পরিচিত। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সেই হরমুখ পর্বতের নীচেই রয়েছে নীলম উপত্যকা। তার চারদিক ঘিরে বরফে ঢাকা দুধ সাদা গগনচুম্বী গিরিশৃঙ্গের মালা। উপত্যকাটি কিন্তু নয়নাভিরাম সবুজ বৃক্ষরাজিতে ঢাকা।
গল্প
শেষ থেকে শুরু
দিশা কুন্ডু
March 03, 2026
নীলার সাথে আজ প্রায় ১০ দিনেরও বেশি হয়ে গেল ঠিক ভাবে কথা হয় না দেবর্ষির। হয়তো ভালোবাসার বয়স বাড়লে এরকমই হয়। তখন যেন ভালোবাসার মধ্যে সেই স্নিগ্ধতা ভাবটা হারাতে শুরু করে আস্তে আস্তে।
নীলা ও দেবর্ষি দুজনেই ভীষণ নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত দুই মানুষ। কিন্তু এটা তো প্রথম থেকেই ছিল তখন তো তাদের মধ্যে একে অপরকে সময় দিতে কোন ব্যস্ততা আসত না, তবে আজকাল আসছে কেন? হয়তো সময় মানুষকে বদলে যেতে বাধ্য করে/নয়তো মানুষই সময়টাকে বদলে দেয়।।


