রেডিও নিয়ে দুচার কথা_ দেবব্রত ঘোষ মলয়

রেডিও নিয়ে দুচার কথা দেবব্রত ঘোষ মলয়   এক  তখন হাফপ্যান্ট। ঘুম থেকে উঠেই আমাদের প্রথম কাজ ছিল বাড়ির বিস্তীর্ণ বাগানের মধ্যে অবস্থিত পুকুরের বাঁধানো ঘাটে বসে দাঁত ব্রাশ করা (সে সময়ে আঙুল দিয়েই অথবা দাঁতন দিয়ে দাঁত মাজতাম আমরা)। বাবা আমাদের থেকেও ভোরে উঠে পড়ে পুকুরের পাড়ে গাছ গাছালি পরিচর্যা করতেন অফিসের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আগে পর্যন্ত। বাবার একটা ছোট্ট ট্রানজিস্টার ছিল ওই পুকুর পাড়েই বসানো থাকতে এবং তাতে সুন্দর সুন্দর গান হতো সকাল বেলা। তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট ছিল কাজল। ও হঠাৎ দাঁত মাজা বন্ধ করে চোখ গোল করে আমাকে জিজ্ঞেস করল – হ্যাঁরে মনাই, রেডিওর ভিতরে কি করে গান হয় বলতো? দাদা অগ্নিপাস থেকে বলে উঠলো – কি বোকা রে তুই এটাও জানিস না, রেডিওর ভিতরে লোকে বসে গান গায়। এরপর আমরা তিন ভাই গভীরভাবে ভাবতে বসলাম এত বড় মানুষগুলোকে কি উপায়ে এই ছোট্ট রেডিওর মধ্যে বসিয়ে দেওয়া হয়। দুই সন্ধ্যেবেলা বাড়ির সামনে জাফরী দেওয়া বারান্দায় পাতা তক্তবোসে পড়তে বসেছি তিন ভাই। দাদা ক্লাস এইট আমি ফোর আর কাজল থ্রি। আমি একটা কাগজে রুটিন বানাতে শুরু করলাম। কাজল তাতে মনোনিবেশ সহকারে সাহায্য করতে লাগলো। আমরা সন্ধে ছটা থেকে রাত্রি নটা অব্দি আধ ঘন্টা ছাড়া ছাড়া এক একটি বিষয় পড়ার জন্য নির্বাচন করলাম। সব থেকে মজার ব্যাপার ওই প্রতিটি আধঘণ্টার একটা একটা আলাদা নাম দেওয়া হল। যেমন সন্ধ্যে ছটায় বর্ণালী, বাংলা পড়া। সাড়ে ছটায় মঞ্জুসা, ইংরেজি পড়া। এরপর সন্ধ্যা সাতটায় বোরোলিনের আসর, অংক করা। এই যে নামগুলো, এগুলো সবই সে সময়ে রেডিওতে কলকাতা ক বা ক্ষয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নাম, যে অনুষ্ঠানগুলি আমরা সবাই মন দিয়ে শুনতাম। তিন মহালয়ার সকাল। আগের দিন রাত্রি থেকেই বাড়িতে একটা তোড়জোড় শুরু হয়ে যেত। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা ঝুল-ঝাড়া বিছানায় চাদর পাল্টানো ইত্যাদি। বাবা কিন্তু সেদিন সন্ধ্যে থেকে রেডিও নিয়ে পড়তেন। রেডিওটাকে ভালো করে কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে তার ব্যাটারিগুলো বদলে নতুন ব্যাটারি লাগানো হতো। তারপর এমন একটা জায়গায় রাখা হত যেখানে আমরা সবাই গোল করে বসতে পারি ভোর চারটের সময় উঠে। বাবা এবং মা স্নান করে নিতেন ঘুম থেকে উঠে। আমরা সবাই স্নান না করলেও কাচা জামা প্যান্ট পড়ে রেডিওর সামনে বাবু হয়ে বসে পড়তাম। তারপর অন্ধকার ভোর আর হিমেল হাওয়ার শিরশিরানির মধ্যে ভেসে আসতো বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অমৃত কন্ঠে স্তোত্র পাঠ। এর সঙ্গেই আমাদের স্বপ্ন মাখা কিশোর চোখ আগামী দশ দিনের আনন্দের পরিকল্পনা করতে শুরু করত। নতুন কেনা ববিছাপ জামা, বাটার জুতো সবই আমরা হাতের কাছে নিয়ে বসতাম। আমাদের পুজো সেদিনই শুরু হয়ে যেত রেডিওর হাত ধরে। চার এরপর একটু বড় হয়ে যখন ফুলপ্যান্ট ধরবো ধরবো করছি, সে সময় দাদা সন্ধান দিল রাত্রি ন’টায় রেডিওতে কাউন্ট ড্রাকুলার ধারাবাহিক হয়। ভূতকে আমরা ভীষণ ভয় পেতাম। সন্ধ্যেবেলা হ্যারিকেন নিয়ে শেওড়াতলা দিয়ে আসার সময় বুক দূর দূর করত। সে যাই হোক তাড়াতাড়ি পড়াশোনা করে রেডিওর সামনে বসে পড়লাম সবাই। শুরু হলো ধারাবাহিক কাউন্ট ড্রাকুলা। কখন যে ওই হারহিম করা গল্পের মধ্যে ঢুকে গেছি, ড্রাকুলার হিসহিসে কন্ঠে লুসি লুসি ডাক। সে অভিনয় এতটাই জীবন তো আমরা যেন চোখের সামনে পুরোটাই দেখতে পাচ্ছি। সেই মোবাইলহীন, ওয়েব সিরিজ হীন, টিভিহীন এবং সর্বোপরি বিদ্যুৎহীন রাত্রে যে ভয়টা আমরা পেলাম সেটা আজকের ছোটরা কল্পনাও করতে পারবে না। আর সেই দিনই মাঝ রাত্রে দেড়টা দুটো নাগাদ ঘুম ভাঙলো টয়লেট যাবার প্রয়োজনে। মাকে ঘুম ভাঙ্গিয়ে তুলে নিয়ে বারান্দার শেষ প্রান্তে আমাদের প্রকাণ্ড বাথরুমের মধ্যে যাবার সময়ও কেবলই মনে হচ্ছে চারপাশে অশরীরী ড্রাকুলারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। পাঁচ রেডিও শোনা শুরু হয়েছিল শিশু মহল দিয়ে। ইন্দিরাদির কন্ঠে “ছোট্ট সোনা বন্ধুরা” শুনলেই মনটা ভালো হয়ে যেত। এরপর একটু বড় হয়ে গল্প দাদুর আসর। পার্থদের কন্ঠে “ছোট্ট বন্ধুরা” শোনার পরই আমাদের এক ঘন্টা কথা দিয়ে কেটে যেত। এরপর আস্তে আস্তে “অনুরোধের আসর”, “বোরোলিনের সংসার”, “মঞ্জুষা”, “বর্ণালী”,  বুধবারের যাত্রা, “কৃষিকথার আসর” সবই শুনতাম আমরা। স্কুলের বাইরে আমাদের প্রধান বিনোদন ছিল খেলার মাঠ আর বাড়িতে নানা রকম গল্পের বই আর রেডিও। একবার দুবার অনুরোধ এর আসরে গানের অনুরোধ করে নিজের নাম শুনতে পাওয়ার সেই রোমাঞ্চ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আর ছিল বেতার জগত। শুধু রেডিওকে কেন্দ্র করে এইরকম একটি পত্রিকা আজও আমার মনের মনিকোঠায় জ্বলজ্বল করছে। যুগের সঙ্গে পরিবর্তনকে গ্রহণ করার নামই জীবন। আজ রেডিও অনেকটাই অন্তরালে চলে গেছে আর সামনে প্রতিদিন আসছে নতুন নতুন বিনোদন মাধ্যম। কিন্তু রেডিও তো শুধু বিনোদন ছিল না সে সময়, লোকশিক্ষার একটা বড় মাধ্যম ছিল রেডিও। আজকের হাজারো মাধ্যমে বিতরিত বিনোদনে বেশিরভাগ সময় থাকে শুধুই বাণিজ্য, লোক শিক্ষার ব্যাপারটা চলে যায় অন্তরালে। আমরা যারা দুটি সময়কেই চোখের সামনে দেখেছি, তাদের কাছে রেডিওর এ হেন গুরুত্ব অনস্বীকার্য। দেবব্রত  ঘোষ মলয় ইলশেগুঁড়ি পত্রিকা ও প্রকাশনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ মলয় নিজে একজন সাহিত্যকর্মী। সম্পাদনার অবকাশে তাঁর কবিতাযাপন এবং গল্পলিখন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলি হল কাব্যগ্রন্থ ‘‘মেঘলা গঙ্গার কাদামাটি’’ ও ‘‘মেঘ চিনেছি ঈশানকোণে।” এছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে উপন্যাসিকা ‘‘হজমিগুলি হাফপ্যান্ট ও কুলের আচার’’, ‘‘সোনালী দিনের উপাখ্যান’’ এবং গল্পগ্রন্থ ‘‘ভোরের সূর্যোদয়।’’ প্রকাশিত হতে চলেছে উপন্যাস ‘‘নদী, নারী ও ভালবাসা’’, গল্পগ্রন্থ ‘‘বৃষ্টিধারা’’ এবং কিশোর গ্রন্থ ‘‘ডাংগুলির দুপুরগুলি’’।

রেডিও নিয়ে দুচার কথা_ দেবব্রত ঘোষ মলয় Read More »

রাশিচক্র

রাশিচক্র অয়ন মুখোপাধ্যায়   ১ নদী মানুষের গল্প মনে রাখে না, সে শুধু স্রোতকেই মনে রাখে। মানুষের গল্প ফুরিয়ে যায়, স্রোত ফুরোয় না। ১৯৩০ সালের এক থমথমে রাত। গঙ্গার জল ধীরে ধীরে বয়ে যাচ্ছে। হাওড়া ব্রিজের লোহার রেলিংয়ে হাত রেখে এক তরুণ কালো জলের দিকে তাকিয়ে ছিল। দূরে কলকাতার গ্যাসবাতির আলো বিন্দু বিন্দু হয়ে ছড়িয়ে আছে। বাতাসে ভেসে আসছে জাহাজের সাইরেন। কিন্তু ওই আলো তার মনের অন্ধকারে পৌঁছচ্ছিল না। পেছনে ট্রামের ঘণ্টা বাজছে। ঘোড়ার গাড়ির চাকা পাথুরে রাস্তায় শব্দ তুলে ছুটে যাচ্ছে। মানুষের ভিড় আরও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। অথচ এই বিরাট শহরে তার জন্য এক চিলতে জায়গাও নেই। সন্তোষ নিজেকেই বলেছিল, “আজ রাত এগারোটার মধ্যে যদি চাকরির হিল্লে না হয়, তা হলে এই গঙ্গার কালো জলই হবে আমার শেষ ঠিকানা।” এতে কোনো নাটক ছিল না। ছিল শুধু হিসেব। যেন জীবনের একটা অঙ্ক মেলাতে গিয়ে সে ভুল করেছে, আর এখন খাতা বন্ধ করার সময় হয়েছে।২ গুপ্তিপাড়ার সেই পুরনো দিনগুলো এখন ঝাপসা। বাড়িটা খুব বড় ছিল না, কিন্তু মান-সম্মান ছিল। বারান্দায় বসে থাকতেন তার বাবা, সামনে খোলা হিসেবের খাতা। বাবা ঠিকাদারি করতেন। কিন্তু মানুষের হিসেবের বাইরেও আর-একটা হিসেব থাকে। সেখানে লাভের অঙ্কে হঠাৎ লোকসান এসে বসে। দু-একটা ভুল চুক্তি, তার সঙ্গে চেনা মানুষের বেইমানি—সব মিলিয়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল সব। দেনা বাড়ল। জমি গেল। সেই চরম অভাবের মধ্যেও সন্তোষকে দেখা যেত এক কোণে বসে পুরনো পঞ্জিকা আর জ্যোতিষের বই নিয়ে থাকতে। একদিন বাবা বিরক্ত হয়ে বললেন, “সন্তোষ, সংসারটা কি ওই গোল গোল গ্রহ-নক্ষত্রের ছকেই চলবে? একবার এই কঠিন বাস্তবটাও দেখবি না?” সন্তোষ কোনো উত্তর দেয়নি। শুধু মনে মনে ভেবেছিল, এই দুনিয়ার সব জগাখিচুড়ির আড়ালেও বুঝি একটা নিয়ম আছে। সবাই সেটা দেখতে পায় না। ৩ পরদিন ভোরে বাবার কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে সন্তোষ বেরিয়ে পড়ল। হাতে একটা পুরনো ঘড়ি, কাঁধে গামছা, আর সঙ্গে একখানা বাড়তি ধুতি। কুয়াশাভরা গুপ্তিপাড়ার রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে জানত না, ফিরে আসার পথগুলো তার জন্য একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কলকাতা শহর তাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। সে দরজায় দরজায় ঘুরল। সরকারি অফিস, বড়বাজারের গদি, সাহেবি দোকান—সব জায়গায় একই কথা, “লোক লাগবে না।” পকেটের শেষ পয়সাটাও যখন ফুরিয়ে গেল, তখনই সে হাওড়া ব্রিজে দাঁড়িয়ে মরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সন্ধ্যায় সে ক্লান্ত হয়ে ফুটপাথে বসেছিল। এমন সময় এক ভদ্রলোক সামনে এসে দাঁড়ালেন। তিনি গুপ্তিপাড়ারই লোক। কলকাতায় ডাক বিভাগে কাজ করেন। সন্তোষকে চিনে তিনি বললেন, “তুই এভাবে পথে বসে আছিস কেন? তোর বাবা আমার বন্ধু ছিলেন। কী হয়েছে, বল তো?” সব শুনে তিনি বললেন, “চল, আমার সঙ্গে চল। আমাদের আপিসে একটা পিয়নের কাজ খালি আছে।” সে রাতে নদী তাকে ছাড়াই বয়ে গিয়েছিল। সন্তোষ মুখার্জির আর মরা হয়নি।৪ চাকরি পাওয়ার পর জীবনটা একটু ছন্দে ফিরল। দিনে সে চিঠির বস্তা বাছাই করে, খামের ওপরের ঠিকানা পড়ে, এক শহরের খবর আর-এক শহরে পাঠিয়ে দেয়। আর রাতে তার আঙুল চলে নক্ষত্রের ছকে। অফিসের বন্ধুরা হাসত। বলত, “চিঠি বিলি করবি, না কপাল গুণবি?” সন্তোষ হেসে বলত, “সময় হলে দেখবে।” ধীরে ধীরে লোকের মুখে মুখে তার গণনার কথা ছড়িয়ে পড়ল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার কাছে আসতে লাগল। কিন্তু সে কোনো দিন একটি পয়সাও নিল না। সে বলত, “ভাগ্যকে বাজারে বেচলে তার জোর কমে যায়।” ৫ ১৯৩৫ সালের শেষ দিক। একদিন খবর এল, ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ খুব অসুস্থ। কাগজে কাগজে লেখা হচ্ছে, সম্রাটের প্রাণ যায় যায়। লন্ডনের বড় বড় ডাক্তাররা যখন কূলকিনারা পাচ্ছেন না, তখন সন্তোষ নিজের অফিসের ডেস্কে বসে হিসেব কষল। খাতার পাতায় গ্রহদের অবস্থান যেন অন্যরকম ইশারা দিচ্ছিল। সে একটি ইংরেজি কাগজের দপ্তরে চিঠি লিখল— “সম্রাট এখনই মারা যাবেন না। অমুক দিনের পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।” আশ্চর্যের কথা, সন্তোষ যে সময়ের কথা লিখেছিল, ঠিক তার পর থেকেই সম্রাট সেরে উঠতে শুরু করলেন। এই খবর গিয়ে পৌঁছল বড়লাটের কানে। ভারত সচিবের প্রতিনিধি সন্তোষকে ডেকে পাঠালেন বেলভেডিয়ার প্রাসাদে। বিশাল হলঘরের ঝাড়লণ্ঠনের আলোয় সন্তোষ গিয়ে দাঁড়াল। পরনে সাধারণ ধুতি আর সাদামাটা চাদর। সাহেবি জাঁকজমকের মধ্যে তাকে বেমানান লাগছিল। কিন্তু তার চোখে ছিল শান্ত তেজ। সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, “সম্রাট আপনার বিদ্যায় খুব খুশি। আপনি কী পুরস্কার চান? টাকা, জমি, না বড় কোনো খেতাব?” সন্তোষ শান্ত গলায় বলল, “আমি কিছুই চাই না।” সচিব অবাক হয়ে বললেন, “কিছুই না? এমন সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে?” সন্তোষ হেসে বলল, “যিনি প্রাণ দিয়েছেন, তিনিই সব দেবেন। মানুষের কাছে আর কী চাইব?” কয়েক বছর আগের সেই অন্ধকার রাতটা তার মনে পড়ে গিয়েছিল। একমুঠো ভাতের অভাবে যখন সে মরতে বসেছিল, তখনও তো কেউ ছিল না। সচিব তাকে রাতের খাবারের নিমন্ত্রণ করতে চাইলে সন্তোষ সবিনয়ে বলল, “আমি নিজের নিয়ম মেনে চলি। বাইরে খাই না।” সাহেব মুগ্ধ হয়ে বলে উঠলেন, “A true Brahmin indeed সেদিন রাতে অফিস থেকে ফেরার পথে সন্তোষ আবার হাওড়া ব্রিজের ওপর দাঁড়াল। গঙ্গা তখনও আগের মতোই বয়ে যাচ্ছে। সে ভাবল, সেদিন যদি সত্যিই ঝাঁপ দিত, পৃথিবীর কিছুই থামত না। ট্রাম চলত, তারা ঘুরত, শহর তার নিজের মতোই বেঁচে থাকত। শুধু একটি মানুষের গল্প আর লেখা হতো না। তখন সে বুঝল, জ্যোতিষের ছকে গ্রহের অবস্থান যতই নিখুঁত হোক, মানুষের জীবনে সবচেয়ে রহস্যময় আর শক্তিশালী গ্রহের নাম—আশা। এই আশার কথা কোনো কোষ্ঠীতে লেখা থাকে না। এটা শুধু মানুষের ভেতরেই জ্বলে। সন্তোষের মনে হলো নদী সব দেখেছে। সে জানে, মানুষ ভাবে সে ভাগ্য পড়তে শিখেছে। আসলে সে সময়ের অনন্ত বইয়ের একটি মাত্র লাইন পড়তে পেরেছে। বাকি পাতা গুলো এখনও উল্টোনো হয়নি। আর সেগুলো কেউ জানে না।   স্কেচ ছবি — হিরণ মিত্র  অয়ন মুখোপাধ্যায় লেখক পরিচিতি – কবি ও লেখক অয়ন মুখোপাধ্যায়। ঠিকানা – বলাগড়, হুগলী। যে সমম্ত পত্রিকাতে লিখে চলেছেন —  পরম্পরা ,বাংলা স্ট্রিট অনলাইন , গুরুচণ্ডালী  , বাংলা স্পিয়ার ,কেতাব ,ভারতের কণ্ঠ  বাঙালা নেটওয়ার্ক ,আবর্ত , আপনপাঠ , বিকল্প ,গণশক্তি ,জলদর্চি ৷

রাশিচক্র Read More »

Scroll to Top