কালনার ইতিবৃত্ত ঐতিহ্যের আলোয়

শুধুমাত্র বর্ধমান রাজাদের সংস্পর্শেই কালনা সমৃদ্ধ হয়েছে, এমন নয়। তারও হাজারখানেক বছর আগে থেকে কালনা ছিল একটি সমৃদ্ধ ও আধ্যাত্মিক নগরী। এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন—এই তিন সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেছেন। তাঁরা এই কালনাকে নিজেদের আধ্যাত্মিক পীঠ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে হিন্দু ও জৈনদের কথা এখানে বেশি করে বলা যায়।

পরবর্তীতে মুসলিমরা এসেছেন এবং তারাও এখানে এসে এই জায়গাটিকে পছন্দ করেছেন, ঘাঁটি গেড়েছেন। তার পাশাপাশি কালনায় এসেছেন বর্ধমান রাজারা। কালনা ছিল একটি সমৃদ্ধ বন্দর, যার ফলে ব্যবসার দিক থেকে সকলের নজরে এই জায়গাটি ছিল। এছাড়া, গঙ্গার তীরবর্তী হওয়ায় অনেক মানুষ এসে এখানে বাস করতেন। বিশেষ করে তুর্কি আক্রমণের সময় এবং বর্গী আক্রমণের সময়—এই সব সময়েই কালনা ছিল একটি নিরাপদ স্থান। যার ফলে বিভিন্ন জায়গা থেকে কালনায় এসে বহু মানুষ বসবাস করতে শুরু করেন।

তাঁদের অনেকেই ছিলেন আধ্যাত্মিকভাবে শক্তিশালী মানুষ। আবার অনেকে ছিলেন শিক্ষার দিক থেকে জ্ঞানী মানুষ। তাঁরা সকলে মিলে কালনাকে তাঁদের নতুন ভাবনায় গড়ে তোলেন। কালনায় গড়ে ওঠে মন্দির, মসজিদ এবং গির্জা। হ্যাঁ, আরও পরবর্তীকালে খ্রিস্টানরাও এসে কালনায় স্থায়ী বাসস্থান তৈরি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, রোমান এবং ক্যাথলিক—দুই ধরনের চার্চই কালনায় অবস্থিত।

এর পাশাপাশি, বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ায় নীল চাষের একটা বাজার কালনায় তৈরি হয়েছিল। এটি প্রথম তৈরি করেন ফরাসিরা। পরবর্তীকালে ইংরেজ আগ্রাসনের কাছে তাঁরা হার স্বীকার করে এখান থেকে চলে যান। কালনায় তারপর এই কুঠি সামলাতে থাকে ইংরেজরা। কালনায় ইংরেজদের স্থাপনায় গড়ে ওঠে বেশ কিছু ভবন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সেই সময়কালের কালনা হাসপাতাল, যেখানে রোগী নিয়ে—কলেরা রোগী নিয়ে—এসেছিলেন স্বয়ং বিদ্যাসাগর।

এই কালনায় জন্মেছিলেন তারানাথ তর্কবাচস্পতি। কালনায় পদার্পণ করেছিলেন শ্রীচৈতন্যদেব, রামকৃষ্ণ পরমহংস—এরকম বহু মানুষ। তাই কালনার ইতিহাস জানতে অনেকেই উন্মুখ হয়ে থাকেন।

কালনার ইতিহাস নিয়ে অনেক দিন আগে, আশির দশকে, একটি বই তৈরি হয়েছিল। কালনার ইতিবৃত্ত লিখেছিলেন দীপক কুমার দাস। ২০১৮ সালে বইটিকে লেখকের সাহায্যে আমরা পুনর্নিমান করি ৷প্রকাশিত হয় ভাষাপথ থেকে ৷ আজ লেখক স্বয়ং আর ইহজগতে নেই। কিন্তু তিনি না থাকলে কী হবে? তাঁর লেখা রয়ে গেছে। বইটি রয়ে গেছে। কিছু বই এখনো আমাদের ভাষাপথের কাছে রয়ে গেছে। তাই ওই বইগুলো আপনাদের হাতে তুলে দিতে চাই।

বইটির দাম দুশো পঞ্চাশ টাকা। আমরা সেটি আপনাদের দেব দুশো টাকায়। তার সঙ্গে পোস্টাল চার্জ নিয়ে দুশো তিরিশ টাকা। এই টাকা দিলেই আপনারা ঘরে বসে কালনার ইতিবৃত্ত বইটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

আপনারা যোগাযোগ করুন আমাদের WhatsApp নম্বরে। নম্বরটি হলো 9434573352 সেখানে ঠিকানাটি দয়া করে পাঠিয়ে দিন।

Scroll to Top