


Published on – Sunday, March 01, 2026
অন্তঃস্রোত
কৌশিক বসু
তুমি কি কখনো ভালোবেসেছ
নদীর মত–
আকাশের প্রতিবিম্ব নিঃশব্দে বুকে জড়িয়ে বেঁচেছ দিনের পর দিন?
কখনো কি দেবদারু গাছের নির্মোহ সারল্য নিয়ে, পুরুষালী ভঙ্গীতে
চোখ তুলে বলেছ,”ভালোবাসি, তোমাকে ভালোবাসি..!”
ফুলে ফুলে ভরে থাকা গাছের কোমলতায় প্রেয়সীকে দু হাত বাড়িয়ে ডেকেছ কখনো?
নিবিড় শান্তিতে অভিভূত হয়ে দু দন্ড কথা বলেছ নিজের সাথে?
জানি, ঝরা পাতার মত অনেক ইচ্ছা বুকেই ঘুমিয়ে গেছে।
তবে জাগাও নিঃশর্তে সেই সব ঘুমন্ত ইচ্ছা,
নীল আঁচড়ে আঁকা ছবির মত
জেগে ওঠো ভাবুক ভালবাসা নিয়ে,
এই পৃথিবীর যত প্রেম আত্মস্থ করো তুমি।
Published on – Sunday, March 01, 2026
বসন্ত উৎসব
প্রদীপ স্বর্ণকার
খোঁপা জোর পলাশ তোমার
কৃষ্ণচূড়ার মালা
হাতটি জোরা কোপায় পারের
বুনফুলের বালা।
মুখটি জুরে ফাগুন হাসি
আগুন রাঙা মনে
ইচ্ছা করে হারিয়ে যেতে
সোনা ঝুড়ির বনে।
ধরবে কি হাত? বলবে চলো!
হারিয়ে যাওয়ার দেশে,
যে দেশেতে দুক্ষরা সব
আনন্দে যায় ভেসে।
দূর সে গাঁয়ে জৎস্না রাতে
বাউল সুরের গান
জোৎস্না মেখে মাতাল মনের
অন্যরকম স্নান।
অন্যরকম মনের কথা
অন্যরকম চাওয়া
অন্যলয়ে ভেষে চলা
ভিন্য তরী বওয়া।
ঠিক তখনি একটা শিমুল
পরবে খসে পাশে
স্বপ্ন, জীবন একসাথে সব
উরবে পরবাসে।
দুহাত নেরে গায়বে তুমি
ফগুন দিনের গান
কোপাই ভেসে হৃদয় যুরে
ডাকবে প্রেমের বান।
আকাশ যুরে শিমুল পলাশ
বাতাসে বৈভব
ঠিক তখনি সত্যকারেই
বসন্ত উৎসব।
Published on – Sunday, March 01, 2026
ভালোবাসার স্পর্শ
বিপ্লব ভট্টাচার্য
আজ তোমাকে কথা দিলাম
আর কোনদিন বিরক্ত করব না,
ভালোবাসার অধিকার নিয়ে পাশে যাবো না।
আমি মন পেতে চেয়েছিলাম,
তোমার আঁচলের গন্ধে মাতাল হতে চেয়েছিলাম।
তোমাকে ভালোবেসেছিলাম একদিন—
আজও ভালোবাসি,
ভালোবেসে যাবো প্রতি নিয়ত,
প্রতিটা অবক্ষয়ের বোমা ফাটার আর্তনাদে।
আমি যে বিচ্ছেদে ভয় পাই
প্রতিটা রাতে আমার ঘুম আসে না,
ভয়ে আতঙ্কে তোমার কোমল হাতের স্পর্শ অনুভব করি।
আজ আর কিছু চাই না আমি তোমার কাছে–
আমাকে ঘুম পাড়িয়ে চলে যাও
সেই ক্লান্ত ঘুমের দেশে নীল আকাশের বুকে
তারা হয়ে তোমাকে দেখবো আমি।
না চাই প্রত্যাশা, না চাই ভালোবাসা;
বঞ্চনার কালো মেঘ বুকে নিয়ে,
বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বো একদিন—
তোমার চুল ভিজিয়ে দেবো
ভালোবাসার স্পর্শ দিতেই হবে সেদিন…
Published on – Sunday, March 01, 2026
অন্য বসন্ত
কলমে চিত্রদীপ
ফাগুন কবে আসবে গো?
বসন্ত্ বাহার সুর শুনি !
দিনগুনি….
প্রতি পল গুনি….
আসবে কখন ফাল্গুনী?
ছন্দে ফেরে না মনের দোল!
প্রেম গজল..
চোখ সজল..
তবু স্বপ্নের জাল বুনি।
আসবে কবে সে ফাল্গুনী ?
আমের মুকূলে ন্যুব্জ ডাল,
কৃষ্ণচূড়াও রক্তে লাল !
পলাশ ফুল–
কি আকুল !
ভোমরার মুখে গুনগুনী !
আসবে কবে সে ফাল্গুনী।
আমি তো অন্ধ ! হুঁশকানা ।
বুঝিনি আসলে তালকানা।
ফাগুন এসেছে।
কখন হেসেছে।
উতল হয়েছে শালবনী ।
পার হয়ে গেছে পার্বনী ।
মধু ঋতুরাজ আসার খবর
শুনেছি বাজছে ঢাকও ডগর
মূল বসন্তে ?
দেখি হসন্তে ?
বৃথাই বাজলো খঞ্জনী ?
আসবে কবে সে ফাল্গুনী?
Published on – Sunday, March 01, 2026
ফাগুন যৌবন
সত্যেন্দ্র প্রসাদ নন্দী
স্বপ্নরা দল বেঁধে হাজির হয়েছে
তালাপাতায় সুর তুলে।
পলাশের ডাকে, আমের মুকুল গন্ধে,
শীতল পাটি বিছিয়ে বসে থাকে
কোকিলের ঝাঁক আর রঙিন প্রজাপতি।
ফাগুন রঙা বাসন্তী দরজায় শিকল তুলে
এ বাড়ি ও বাড়ি হাঁক দেয়।
বাসনের ঝুড়িতে থাকে রঙিন আসবাব
শুধু জীবনের বিবর্ণ হিসাব, খাতা খোলে
সেখানে বসে রঙের হাট।
শিমুলিয়া রঙে পাশের বাড়ির ছাদ
ষোড়শীর উচ্ছলতায় ওড়না খসে পড়ে।
এখানে ওখানে গুড়ো গুড়ো আবীর ওড়ে
জমা হয় হৃদয় জাহাজে,
নোঙর ফেলে ফাগুয়া যৌবন।
