শেষ থেকে শুরু
দিশা কুণ্ডু
March 03, 2026
নীলার সাথে আজ প্রায় ১০ দিনেরও বেশি হয়ে গেল ঠিক ভাবে কথা হয় না দেবর্ষির। হয়তো ভালোবাসার বয়স বাড়লে এরকমই হয়। তখন যেন ভালোবাসার মধ্যে সেই স্নিগ্ধতা ভাবটা হারাতে শুরু করে আস্তে আস্তে।
নীলা ও দেবর্ষি দুজনেই ভীষণ নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত দুই মানুষ। কিন্তু এটা তো প্রথম থেকেই ছিল তখন তো তাদের মধ্যে একে অপরকে সময় দিতে কোন ব্যস্ততা আসত না, তবে আজকাল আসছে কেন? হয়তো সময় মানুষকে বদলে যেতে বাধ্য করে/নয়তো মানুষই সময়টাকে বদলে দেয়।।

সে যাই হোক, আজ হঠাৎই নীলা নিজেই আর থাকতে না পেরে, দেবর্ষিকে জরুরী দরকার আছে বলে ডেকে পাঠালো, দেবর্ষি জানিনা কেন আজ কোন রকম ‘হ্যাঁ না’ করলো না এক কথায় রাজি হয়ে গেল, হয়তো দেবর্ষিও মনে মনে নীলার সাথে দেখা করতে চাইছিল কিন্তু মুখ ফুটে বলে উঠতে পারছিল না।
বিকেল চারটে পনেরো, আজ দেবর্ষি চলে এসেছে, কিন্তু নীলা কই ও তো দেরি করে না সাধারণত, আরো বেশ কিছুক্ষণ পর নীলা এলো। নীলাকে আজ অন্যদিনের থেকে একটু বেশি সুন্দর লাগছে, কালো রঙের কুর্তি টা পড়েছে তারপর চুলটাও খুলে এসেছে। খুব একটা তো চুল খুলে না ও, সবকিছুর মধ্যে পড়ে দেবর্ষি যেন বাকরুদ্ধ হয়েছে গেছে। তাই নিলায় বলে উঠলো:
নীলা: কি,রে লাস্ট কিছুদিন ধরে কি শুরু করেছিস ঠিক মতন কথা বলছিস না, মেসেজে রিপ্লাই করছিস না, কি ব্যাপার বলতো? নতুন কাউকে মনে ধরেছে? সম্পর্কের ৬ বছর পরে এসে অন্য কারোর কাছ থেকে আমি এইসব কিন্তু শুনতে পারবো না, যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে তুই আমাকে সামনাসামনি বল।।
দেবর্ষি: বেশ অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর বলে উঠলো, তুই তো প্রচন্ড ব্যস্ত। তোর চাকরি ,তোর পরিবার নিয়ে, আমায় নিয়ে ভাবার মতন সময় আছে তোর?
নীলা: আমি তোকে সময় দিই না এটা বলিস কি করে? এত স্বার্থপর কবে হলি? সবকিছু সেরে তো আমি তোর কাছেই আসি সেটা তুই বুঝতে পারিস না, তুই আমার অনুভূতি গত ছ’ বছর আগেও বুঝিস নি আর এখনো বুঝিস না। আমি এখনকার মডার্ন ভালবাসাতে বিশ্বাসী নই। আমার ভালোবাসা আমার অনুভূতি আমার একান্ত ব্যক্তিগত । আমি ভালোবাসা জাহির করতে পারি না বলে আজ আমার এই অবস্থা।
দেবর্ষি: ও তাই, আমি কেমন আছি? তুই কোনদিনও জানতে চাস সব সময় তো শুধু তোর টুকুই বলে যাস, আমার টুকু শোনার সময় তোর আছে, আমার ভালোবাসা আমার অনুভূতির খবর তুই রাখিস আজকাল??
নীলা: তুই না বললে আমি জানবো কি করে? তুই তো বলতেই যাস না, কি হয়েছে বল না প্লিজ, আর পারছিনা এভাবে। ভালো লাগছে না কেন বুঝিস না?
দেবর্ষি: (দেবর্ষি চোখটা ছল ছল করছে) কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বলল ‘চাকরিটা নেই’ আমার আর।
নীলা: মানে কি বলছিস তুই? কবে ঘটলো এসব, তুই একবারও আমাকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করলি না এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল,
দেবর্ষি: লাস্ট উইকে, আমি জানিনা আমি কি করবো? মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
নীলা: সেটা তুই এখন বলছিস, এতদিন জানাস নি কেন আমাকে সেটার উত্তর দে?
দেবর্ষি: তোকে আমি চিন্তায় ফেলতে চাইনি, এমনিতেই তুই সারাদিন অফিস, বাড়ির সব দায়িত্ব নিয়ে ঘুরে বেড়াস। তারপর আমার এই বাজে খবরটা তোকে বললে তুই আরো বেকার চিন্তায় পড়ে যেতিস। জানিস নীলা, আমি ভেবেছিলাম দেড় বছর তো চাকরি করছি। এবার তোর কথাটা পাকাপাকিভাবে আমার বাবা মার সামনে পারব। কিন্তু কোথা থেকে কি হয়ে গেল দেখ। আমি কিছু বুঝে উঠতে পারছি না আমি কি করবো? সরি নীলা আমি কোনদিনই কোন কিছু ঠিকভাবে করে উঠতে পারি না তোর জন্য। (নীলার হাত দুটি ধরে কেঁদে ফেলল ছেলেটি)

নীলা: ধুর পাগল এত ভাবছিস কেন, আমি তো আছি। তুই ঠিক আর একটা চাকরি পেয়ে যাবি দেখিস, এত ভাবিস না,আমি আছি তো তোর পাশে। তোর চিন্তা নেই আমি কোথাও পালাচ্ছি না, তুই প্লিজ ভেঙ্গে পড়িস না, দেখিস ঠিক একটা না একটা জায়গায় আমরা পৌঁছে যাব একদিন, সেদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।।
(এই সমস্ত কথোপকথন বেশ কিছুক্ষণ ধরে গঙ্গার ধারের পাড়ে বসে চলতে থাকে। তারপর একে অপরকে ভরসা দিয়ে নিজেদের গন্তব্যের পথে চলতে শুরু করে)
দিশা কুণ্ডু
বর্তমানে একজন চিত্রাঙ্কন শিল্পী ৷
নিজের একটি স্কুলও আছে তার ৷ কিছুদিন আগে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে একটি প্রদশর্নীরও আয়োজন করেন ৷ এর পাশাপাশি কিছুদিন ধরে তিনি সাহিত্য সৃষ্টির মধ্যেও আছেন ৷ কালনাতে যারা এ মুহুর্তে নতুন প্রজম্ম সাহিত্য সৃষ্টি করছেন দীশা তাদের মধ্যে একজন ৷
